৫৪ দুর্নীতির মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত নিষ্পত্তিতে নেই উদ্যোগ

editoreditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:11 AM, 28 July 2021

শরীফ রুবেল, সকালের সুর্যোদয় প্রতিবেদকঃ

আইনি জটিলতাই দুর্নীতি মামলা নিষ্পত্তিতে বাধা
প্রভাবশালীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বিচার বিলম্বিত করছেন
দুদকের মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা উচিত -মনজিল মোরসেদ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট
আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালন হলে নিষ্পত্তি বেড়ে যাবে -খুরশিদ আলম খান, দুদকের আইনজীবী
নেই বড় আয়ের উৎস। তবুও গরিব থেকে হঠাৎ ধনী। অবধৈভাবে রাতারাতি গড়ে টাকার পাহাড়। তারপর চলে অর্জিত সম্পদ লুকাতে বিদেশে পাচার প্রক্রিয়া। উদ্দেশ্য একটাই, দুদকের চোখ ফাঁকি দেয়া। প্রতিনিয়তই দুর্নীতির হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। পাচারকারিদের বিরুদ্ধে মামলাও হচ্ছে। তবে বিচারকাজ আটকে যাচ্ছে। কখনোও আবার স্থগিতাদেশে যুগ যুগ ঝুলে আছে মামলা। মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা অধিকাংশ মামলাই বছরের পর বছর ধরে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। মামলার আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্ব করা হচ্ছে। স্পর্শকাতর এসব মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। বিচারও চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। দ্রুত নিষ্পত্তি করতে কর্তৃপক্ষের তেমন উদ্যোগ নেই। এদিকে বিদেশে অর্থপাচারকারীদের দেশ ও জাতির শত্রু বলে অভিহিত করেছে হাইকোর্ট। এ জাতীয় বেঈমানদের নাম প্রকাশ না হলে অপরাধ কমবে না বলেও মনে করে উচ্চ আদালত। কানাডার ‘বেগমপাড়া’ গড়ে তোলাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু বাংলাদেশির অর্থপাচারের ঘটনায় পত্রিকার প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে ও বিদেশে অর্থপাচারকারীদের নাম-ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য চেয়ে স্বপ্রণোদিত আদেশ দেয়ার আগে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব কথা বলেন।

তবে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থপাচারকারীদের বিষয়ে উচ্চ আদালতে কোনো তথ্য জমা পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইনি জটিলতা, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, আদালতে আসামিপক্ষের সময়ক্ষেপণ, সমন্বয়ের অভাব এবং উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ থাকায় বিচারিক আদালতে মামলার বিচার কার্যক্রম যথাসময়ে শুরু ও নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। ফলে অর্থ পাচার, অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ মানি লন্ডারিং বিষয়ক অপরাধ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। আলাদা আইন প্রণয়ন ও বিচারের জন্য আদালত প্রতিষ্ঠার কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা জানান, দুদকের মামল অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য ফাঁকি, উৎকোচ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি ক্রয়ে দুর্নীতি, অর্থপাচার ইত্যাদি। দুর্নীতির এসব অভিযোগে রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সরকারের বর্তমান ও সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হয় তাই তারা অত্যাধিক প্রভাবশালী হওয়ায় দুদকেরও এসব মামলায় বিচার পেতে বেগ পেতে হয়। অনেক সময় প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। দুদক কোনো ব্যক্তির সম্পদের হিসাব চাইলে প্রথমে নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পরে অনুসন্ধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। এরপর মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। পরে বিচারিক আদালতে সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। সেটা হাইকোর্টে বহাল থাকলে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়। আপিল নিষ্পত্তি হলে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করা হয়। অন্যদিকে, বিচারিক আদালতে কেউ খালাস, জামিন বা অব্যাহতি পেলে দুদকও উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। এভাবেই চলে আইনি লড়াই। ফলে মামলা নিষ্পত্তিতে সময় লেগে যায় বছরের পর বছর।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘দুদকের মামলাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা উচিত। কারণ দ্রুত বিচার হলে দুর্নীতি করতে সবাই নিরুৎসাহিত হবে। উচ্চ আদালতে অথবা নিম্ন আদালত সব জায়গায়ই এসব মামলার খুবই ধীরগতি বিরাজমান এটা গুরুত্বসহকারে সমাধান করতে হবে। তবে বর্তমানে কিছু মামলার নিষ্পত্তিতে হাইকোর্ট কার্যকরি ভূমিকা রাখছে। যেমন পিকে হালদারের বিষয়টি। অন্যমামলার ক্ষেত্রেও আগের চেয়ে কিছুটা গতি ফিরেছে।’

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচারের সময় এসব মামলা ঠুনকো অজুহাতে অহেতুক দীর্ঘ বিলম্ব করা ঠিক নয়। তাহলে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকরে পার পেয়ে যেতে পারে। সরকারের উচিত এসব মামলার বিচার পর্যায়ক্রমে শুরু করা এবং মূল অপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা।’

দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘দুদকের প্রতিটি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনজীবী প্যানেল কাজ করছে। যেসব মামলা নানা আইনি ব্যাখ্যার কারণে বিচারাধীন, সেগুলো আমরা ত্বরিতগতিতে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করছি। উচ্চ আদালতও যথাসময়ে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয়ও ঘটছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রতিপালন করা হলে মামলা নিষ্পত্তির পরিমাণ বেড়ে যাবে। মামলাজটও কমে আসবে। দুর্নীতির বিচারগুলো দৃশ্যমান হবে।’ পুরনো ও চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির মামলা দ্রুতলয়ে নিষ্পত্তি করে অর্ধেকের নিচে নিয়ে আসা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জানা গেছে, ২০১২ সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের পর এ আইনে বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া ৪০৮টি মামলা ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহর এবং পুরোনো জেলার বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যে আলোচিত মামলার সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০টি। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, অর্থ পাচারের অন্তত ৫২টি মামলার হাইকোর্টের আদেশে বিচার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ৮৫টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন। ঢাকায় ১০টি বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন ১৮৫টি মামলা। নিম্ন আদালতে সাজার বিরুদ্ধে আপিল এবং জামিনের জন্য আসা ১০ থেকে ১৫টি মামলা উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায়। ৪০৮টি মামলার মধ্যে ১৮৭টি দুদকের দায়ের করা। বাকিগুলো দায়ের করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ছাড়া বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর আমলেও করা অসংখ্য মামলা আদালতে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন।

সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এরপর করোনার কারণে নিষ্পত্তির প্রবণতা আরও কমে গেছে। ঢাকার ১০টি বিশেষ আদালতসহ বিভাগীয় ও পুরোনো জেলা শহরে মোট ২৯টি বিশেষ জজ আদালত রয়েছে। বিশেষ জজ আদালতে সপ্তাহে এক দিন মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলার বিচার কার্যক্রম হয়ে থাকে। বাকি সময় বিভিন্ন দুর্নীতির মামলার পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর হত্যা, ডাকাতি, মাদক, চেক ডিজঅনারসহ অন্যান্য ফৌজদারি মামলারও বিচার হয়ে থাকে। করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন থাকায় এসব আদালতে বিচারকাজ আপাতত বন্ধ। গত দেড় বছরেও উল্লেখযোগ্য কোনো মানি লন্ডারিং মামলার রায় আসেনি এসব আদালত থেকে। বিচার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও আইন মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা প্রয়োজন। মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণ জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর আদালতের পিপি আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘করোনার কারণে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে কারোর হাত নেই। পরিস্থিতি ভালো হলে সাক্ষী সমন দিয়ে বিচারের জন্য থাকা মানি লন্ডারিং মামলাগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ে তারিখ দিয়ে সাক্ষ্য নেয়া হবে। অনেক মামলা চার্জ গঠনের জন্য শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে।’

অর্থ পাচারের আলোচিত মামলা : বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর অধিকাংশ মামলা বিচারিক আদালতে আজও শেষ হয়নি। সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা মামলা ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে মামলার পুনরায় তদন্ত চলছে। অর্থ পাচারের অভিযোগে ওয়ান-ইলেভেনের সময় দুদকের করা ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার বন্ধু বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন এবং তারেক রহমানকে খালাস দেয়া হয়। তারেক রহমানকে খালাস দেয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। হাইকোর্ট ২০১৬ সালের ২১ জুলাই খালাসের রায় বাতিল করে তারেক রহমানকে সাত বছরের সাজা দেন। মামুন রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলেও তারেক রহমান পলাতক থাকায় আপিল করেননি। তবে কাফরুল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলায় ২০১১ সালের ২২ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে ছয় বছর এবং সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) আকবরের ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন আকবরের একই সাজা দেন আদালত। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি সোলেমান আনোয়ার চৌধুরীসহ ৯ জনকে ১০ বছর করে সাজা দেন আদালত। বিএনপি সরকারের সময়ে ২০০৫ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে গুলশান থানায় মামলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৬ বছর পর কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চলতি বছর ২ মার্চ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ২০০৭ সালের ৩ মার্চ রাজধানীর তেজগাঁও থানায় তৎকালীন ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সাবেক এভিপি তারিকুল ইসলাম খানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের মাধ্যমে এক নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হয়। মামলাটি বর্তমানে এ আদালতে চার্জ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। মামলার পর ১০ বছর পার হয়ে গেছে। মামলাটি চার বছর ধরে বিচার পর্যায়ে রয়েছে।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা ১৮৫টি মামলা ঢাকার ১০টি বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম, ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক ওরফে বাবুল চিশতী, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সালাম, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. শহিদুল আলম, বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিক, ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, পুরান ঢাকার বহিষ্কৃৃত আওয়ামী লীগ নেতা দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়া, বহিষ্কৃৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, সাবেক পুলিশ ইন্সপেক্টর ফিরোজ কবীর, ম্যাক্সিম ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমানসহ ২০ জন, লয়েড ভিশন প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারমান হোসাইন মাহমুদ রাসেল, আইন কমিশনের সাবেক ড্রাইভার শামসুল আলমসহ অন্যান্যের মামলা রয়েছে।

তদন্ত পর্যায়ে যেসব মামলা : সাবেক এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, পলাতক পিকে (প্রশান্ত কুমার) হালদার, সাবেক যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট, জি কে শামীম, মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরসহ সাতজন, লোকমান হোসেন ভূঁইয়াসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত করছে বিভিন্ন সংস্থা। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলা আগে তদন্ত করত শুধু দুদক। শুধু তদন্ত নয়, মামলা মনিটরিংও করত সংস্থাটি। তবে ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধন করে গেজেট প্রকাশের পর থেকে দুদকসহ পাঁচটি সংস্থা তদন্তের দায়িত্ব পায়। অপর চারটি সংস্থা হলো— পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

আপনার মতামত লিখুন :