মিয়ানমারের থেকে আসছে না গরু-মহিষ  টেকনাফে হু হু করে বাড়ছে কোরবানি পশুর দাম

editoreditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:48 PM, 10 July 2021

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

হু হু করে বাড়ছে টেকনাফে কোরবানি পশুর দাম। মিয়ানমারসহ সীমান্ত দিয়ে সরকার পশু আমদানি বন্ধ ঘোষনায় এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই)  শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে দু হাজারের মত গবাদিপশু আনার পর বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে পশুর মূল্য বাড়তে থাকে।  এ-হারে গবাদিপশুর দাম বৃদ্ধি পেলে অনেকেই কোরবানি নিয়ে সংকটে পরবে। এমন সংকটের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে সর্ব দক্ষিণের একমাত্র মিয়ানমার কেন্দ্রিক করিডোর ব্যবসায়ীসহ পশু ক্রেতারা।

এদিকে দেশের খামারিদের লোকসানের কথা চিন্তা করে গতকাল শুক্রবার থেকে দক্ষিন চট্রগ্রামের একমাত্র করিডোর টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ করে দেয় সরকার। এর পর পরই উখিয়া-টেকনাফ তথা দক্ষিন চট্রগ্রামের মানুষের কোরবানি পশু সংকটের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশপাশি হাট বাজারে দুই-তিন গুন দাম বৃদ্ধি পেয়েছে গবাদিপশুর।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত

সভাপতি  মাষ্টার জাহেদ হোসেন  জানান, ‘ মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু বন্ধ হওয়ায় টেকনাফসহ কক্সবাজারে  কোরবানি নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে।  ক্রয়সীমার বাইরে যাচ্ছে পশু। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ গুলো  কোরবানির জন্য পশু কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি

এ সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের খামারীদের উৎসাহ প্রদান ও  করোনা মহামারির বিষয় গুলো বিবেচনায় এনে  সরকারের নির্দেশে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।।’
এদিকে কক্সবাজার জেলায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাসহ ৩৫ লাখ মানুষের বসতি। অধিকাংশ এসব মানুষের কোরবানি পশু নির্ভরশীল মিয়ানমার থেকে আসা গবাদিপশু উপর। এছাড়া মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু বন্ধ হওয়ায় হাট বাজারে পশু দাম দুই-তিন গুন বেড়েছে। ফলে অঞ্চলের প্রায় দশ হাজার মানুষ কোরবানি পশু নিয়ে চিন্তিত রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ চলতি মাসে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুইদিনে মিয়ানমার থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে গরু-মহিষ আসছে ৩ হাজার ১৩০টি। তার বিপরীতে সরকার ১৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা রাজস্ব পেয়েছেন। এর আগে গত মে ও জুন এ দু’মাসে মিয়ানমার থেকে ২৫ হাজার ৮৬৮টি গরু ও ৪ হাজার ২৫৮টি মহিষ আমদানি করা হয়েছে। আর আমদানি বাবদ এক কোটি ৫০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে শুল্ক বিভাগ।

সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি জানান,‘মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আসা বন্ধ হওয়ায় তার অঞ্চলে প্রায় দশ হাজার মানুষ কোরবানি পশু নিয়ে চিন্তায় রয়েছে। তার উপর এখানে ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের বসতি। তাছাড়া দক্ষিন চট্রগ্রাম অঞ্চলে খামারিদের সংখ্যা কম।’
তিনি জানান, ‘লকডাউনের কারনে ঢাকাসহ উত্তর অঞ্চল থেকে খামারিরা এদিকে গবাদিপশু আনছে না। এতে হাট বাজারে পশুর দাম আকাশ ছোঁয়ার মত। এই অবস্থায় কক্সবাজারসহ দক্ষিন চট্রগ্রামে কোরবানি পশু’র সংকট দেখা দিয়েছে। এমত অবস্থায় বিশেষ বিবেচনায় মিয়ানমার সীমান্তের এক মাত্র করিডোর খুলে দিয়ে এ সংকট নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করছি।’
গবাদিপশু ব্যবসায়ী আবু ছৈয়দ জানান, ‘মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ থাকায় সামনে সংকট চলছে। ইতি মধ্য হাট বাজারগুলোতে গরু-মহিষের দাম কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে একমন গরুর মাংস ৩০ হাজার দামে কোরবানি পশু বিক্রি হচ্ছে।’

মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসা টেকনাফের করিডোর এভাবে বন্ধ রেখে বরং একটি চক্র অবৈধ ভাবে চোরাই পথে পশু আমদানিতে  তৎপর রয়েছে এবং প্রশাসনের নামে চাঁদা আদায় করছে এমন অভিযোগ করেন টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর।

তিনি জানান, ‘ আগের মত করিডোর চালু রাখা দরকার। না হয়

পর্যাপ্ত পশু না পাওয়ায় অনেক মানুষ পশু কোরবানি দিতে পারবে না । তা ছাড়া চোরাচালান বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সরকার রাজস্ব হারাবে।’

আপনার মতামত লিখুন :