নিষ্পত্তির অপেক্ষায় পাঁচ যুগ পার: শেষ হয় না মামলা!

editoreditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:19 PM, 06 July 2021

মামলা হলেই পঁচিশ বছর পার। নথিপত্র যাচাই, সমন জারিসহ সবকিছুতে অতিরিক্ত সময় ব্যয়। বিচারকাজও আর এগোয় না। মামলার রায়ের অপেক্ষায় থেকে মারা যায় বাদি। ফলে মামলাও চলে বংশ পরম্পরায়। চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে কেটে যায় যুগের পর যুগ।

ভূমি মামলার সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির যেনো শেষ নেই। আর্থিকভাবে হচ্ছেনও ক্ষতিগ্রস্ত। মামলার খরচ জোগাতে বিক্রি করছেন জমি-জিরাত। যুগ যুগ মামলার পেছনে টাকা ঢেলে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে। তবুও সমাধান মেলে না।

অপেক্ষার প্রহরও আর শেষ হয় না। কারো কাগজ আছে, দখল নেই। কারো আবার দখল আছে, কাগজ নেই। কেউ স্বত্বের মামলার রায়/ডিগ্রি পেয়েও পাচ্ছে না দখল। দখল পেতেও হচ্ছে হয়রানির শিকার। প্রতিকার পাবে কোথায়। যেনো নালিশের জায়গা নেই। জমির সমস্যায় তাৎক্ষণিক প্রতিকারেরও ব্যবস্থা নেই। প্রতিকার হলেও, তা পেতে পার হয় যুগের পর যুগ। এমনকি মালিকানা প্রমাণে ছহি কাগজপত্রেরও যেনো কোনো মূল্য নেই। প্রাধান্য পাচ্ছে ‘জোর যার মুলুক তার’ তত্ত্ব।

ভূমিদস্যুদের কাছে পরাস্ত হচ্ছেন অসহায়রা। অনেকের সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বেদখল হচ্ছে বসতভিটা। দ্রুতগতিতে বাড়ছে ভূমি-অপরাধ। ঘটছে খুন-খারাবি। ফলশ্রুতিতে বিচারাঙ্গনে বাড়ছে মামলার স্তূপ। আর অতিরিক্ত মামলা উদ্বিগ্ন করে তুলেছে সরকারকেও।

ভূমি বিরোধের কারণে বর্তমানে সারা দেশের আদালতগুলোতে ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮২৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবাদান নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ লাখ লাখ। ভোগান্তির অভিযোগ আরও বেশি। জমিজমাই সংঘাত-সংঘর্ষের বড় উৎস। ভূমিবিরোধকেই তাই অনেক মামলার জনক বলা হয়।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষফোঁড়ার মতো ঝুলে আছে লক্ষাধিক একরের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণের বিষয়টি। আর এতে ভুগছেন সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের মানুষজন। দেশের এক-দশমাংশ এলাকা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেখানে রক্তক্ষয়ী অতীতের জের টেনে চলছে ভূমিবিরোধ।

বিরোধ নিষ্পত্তির হাজার হাজার আবেদন পড়ে আছে। তার ওপর আবার দেশজুড়ে ভূমির ব্যবহার, আগ্রাসন ও অধিগ্রহণ নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংকট চলমান আছে। দ্বন্দ্ব মূলত কৃষি বনাম শিল্প ও আবাসনের জন্য জমির ব্যবহার আর পরিবেশের সুরক্ষার প্রশ্নে।

দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে গতিশীলতা আনতে অ্যাটর্নি অফিস কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি-না এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া আসলে সম্ভব হয় না। দেওয়ানি মামলার বিষয়টা তো আর আমি দেখতে পারবো না। এটা আইন যেভাবে আছে সেভাবেই চলবে। এটা আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়, এটা নিয়ে আমাদের করার কিছু থাকে না।

আর মূলত দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে কোর্টেরও কিছু করার থাকে না। এটা নিষ্পত্তি বা সমাধানের জন্য বাদি-বিবাদি উভয়কেই এগিয়ে আসতে হবে। তারা যদি আদালতকে সহযোগিতা না করেন তাহলে জটিলতা থেকেই যায় আর নিষ্পত্তিতেও ঝামেলা হয়।’

দেওয়ানি মামলার বিচারকাজ গতিশীল করতে উচ্চ আদালতে বেঞ্চ বাড়ানো হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ আদালতে কোনো বেঞ্চ ঘাটতি নেই, আগে থেকেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ সৃষ্টি করা হয়েছে।

জমির মামলাজট কমাতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা পরামর্শ দিয়ে বলেন, আসলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দেওয়ানি আইনের কিছুটা পরিবর্তন আনা উচিত বলে মনে করি। আর এটা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। কারণ শতবছরের পুরনো এই আইন পরিবর্তন করা ছাড়া এসব মামলাজট কমানো সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্টদের দ্রুত এ আইনের সংশোধন করা উচিত।

জানা যায়, সারা দেশের আদালতগুলোতে ফৌজদারিসহ নানা অপরাধে যত মামলা আছে, তার ৮০ শতাংশই ভূমি নিয়ে। অধিকাংশ ফৌজদারি মামলার সৃৃষ্টি হয় ভূমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে। এমনকি খুন-খারাবির মতো ভয়ানক ঘটনাও ঘটছে ভূমি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে।ফলে দীর্ঘদিনের এই মামলাজট এখন মহাজটে পরিণত হয়েছে।

কবে নাগাদ ভূমির মামলার হয়রানি ও জট কমবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, মামলাজট সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি দ্রুতই সমাধান আসবে।

এদিকে জমির মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতার আলোকে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, মামলার আরজি প্রস্তুত, শুনানির জন্য নোটিস জারি, বিবাদির জবাব দাখিল ও গ্রহণে বিলম্ব, ঘন ঘন শুনানি মুলতবির আবেদন ও তা মঞ্জুর, বিচারক ও এজলাস স্বল্পতা, জুডিশিয়াল পলিসি ও দেওয়ানি আইনের সংস্কার না হওয়াসহ নানা জটিলতায় দেওয়ানি মামলার নিষ্পত্তি হয় ধীরলয়ে। এতে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

আইনজীবীদের এমন মন্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, আসলে এখানে প্র্যাকটিসের একটা ব্যাপার থাকে। উচ্চ আদালত থেকেও দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সময়ের একটা নির্দেশনা দেয়া আছে।

তবে সেটা মানা হয় না। আর ৬৩ বছর ধরে মামলা ঝুলছে এটা নতুন কিছু নয়, আদালতে এমন অসংখ্য মামলা আছে। আমি গাজীপুরের দেওয়ানি মামলার একটা কেস স্টাডিতে সম্পৃক্ত ছিলাম। সেখানে আমি দেখেছি, দেওয়ানি মামলায় দুপক্ষের আইনজীবীই বিভিন্ন ছলচাতুরির আশ্রয় নেয়।

আইনজীবীরাই মামলার সময়ক্ষেপণ করে। অনেক সময় শুনানির সময় আদালতে বাদি-বিবাদির কেউই উপস্থিত থাকেন না। তখন আইনজীবী বাদি-বিবাদির বাবা অথবা মা মারা গেছে এমন কারণ দেখিয়ে সময় আবেদন করেন। আদালত সেটা বিবেচনায় নিয়ে সময় দিয়ে দেন।

অথচ এর আগেও এমন বাবা-মা মারা যাওয়ার কথা বলে একাধিকবার সময় নেয়া হয়েছে। কিন্তু বিচারকরাও সময়ের অভাবে মামলার পুরনো ফাইল পড়ে দেখেন না বলেই বিষয়টা ধরতে পারেন না। ফলে এটা অজানাই থেকে যায়।

এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মানুষের বাবা-মা কতবার মারা যায়? আর টাকার লোভে আইনজীবীরা ইচ্ছাকৃতভাবেও সময়ক্ষেপণ করেন। কারণ আদালতে দাঁড়ালেই তারা ৬০০ বা এক হাজার টাকা পান। তাই যত সময় যায় তাতে তাদের লাভ হয়।

এভাবে মামলা নিষ্পত্তিতে যুগের পর যুগ সময় লেগে যায়। এখন এই সমস্যা সমাধানে আদালত ব্যবস্থা ডিজিটালাইজড হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। প্র্যাকটিসটা পরিবর্তন করতে হবে। সেই সাথে যত আধুনিক হবে ততই এসব ফাঁকফোকড়গুলো ধরা পড়বে।

বিদ্যমান আইন ভূমি মামলার বিচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কিনা এবং সংকট উত্তরের বিষয়ে জানতে চাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা বলেছেন, দেশে বিদ্যমান দেওয়ানি মামলার বিচার ব্যবস্থার পদ্ধতি এখনো যুগোপযোগী হয়নি।

একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি মামলা পরিচালনার অনুপযোগী। এ আইনের প্রয়োগ পদ্ধতিও আধুনিক নয়। আদালতের বাইরে বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগও উল্লেখ করার মতো নয়। যে কারণে মামলা নিষ্পত্তিতে এর প্রভাব পড়ছে। বিচারিক আদালত হয়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত জমিসংক্রান্ত মামলা ১০ বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এমন নজির খুব বেশি নেই। কোনো কোনো মামলায় ২৫ বছর পর্যন্ত সময় পেরিয়ে যায়।

জট থেকে সমাধানের উপায় কি— এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘আসলে মামলার জট আদালতে নিষ্পত্তির ধীরগতির কারণে হয় না। এর জন্য দায়ী মামলার কারণ। মামলার কারণ উদ্ভাবনের জন্যই আদালতে মামলা আসে।আদালতে চাপ বাড়ে। নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলা কেন হয়, এর কারণ খুঁজে বের করে ওই কারণগুলো কমাতে হবে। প্রশাসন থেকে শুরু করে পুলিশ সবাই যদি তাদের দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করে তাহলে মামলার কারণ ও মামলার চাপ কমবে।’

আদেশ পাল্টা আদেশে ৬৩ বছর ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষা : আসিরুন্নেসা। বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকায়। জমি-সংক্রান্তু বিরোধে জড়ান প্রতিবেশীর সাথে। একই জমির দুজন মালিকানা দাবি করায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

সেই বিরোধের জের ধরে ৬২ বছর আগে (১৯৫৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর) বাটোয়ারা মামলাও (নম্বর- ৩৯৭/৫৮) করেন আসিরুন্নেসা। বিচারিক আদালত ১৯৬২ সালের ২৩ আগস্ট বাদির পক্ষে প্রথম রায় দেয়।

রায়ের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে বিবাদি আবদুল আলী আপিল করেন এবং পরাজিত হন। পরে জেলা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও ১৯৭০ সালে হাইকোর্টে দ্বিতীয় আপিল করেন এবং ১৯৮৯ সালের হাইকোর্টও অধস্তন আদালতের রায় বহাল রেখে বাদির পক্ষে রায় দেয়।

একই সঙ্গে জমির মালিকানার কে কোন অংশ পাবে এটি নির্ধারণ করতে কমিশনার নিয়োগ দেয়। ২০০০ সালে কমিশনার বাদির পক্ষে প্রতিবেদন দেন এবং চূড়ান্ত ডিক্রি জারি হয়। ওই প্রতিবেদন নিয়ে বিবাদি আপত্তি তুলে ২০০০ সালে জেলা জজ আদালতে আপিল করলে ২০০১ সালের সেই আপিল খারিজ হয়ে যায়।

পরে বিবাদি ২০০১ সালে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন আবেদন করে। ২০১৫ সালের এ মামলা বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন করে কমিশনার নিয়োগের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আসিরুন্নেসা ২০১৬ সালে আপিল বিভাগে সিভিল লিভ টু আপিল করে।এখন মামলাটি সর্বোচ্চ আদালতে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে ১৯ বছর আগে বাদি আসিরুন্নেসা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না দেখেই মারা যান। এখন মামলার বাদি তার মেয়ে হামিদা খাতুন (৭০) মামলার শেষ দেখতে আদালতে ঘুরছেন এবং মারা গেছেন প্রথম বিবাদি আবদুল জলিলও। মামলা পরিচালনায় নিযুক্ত একাধিক আইনজীবীও ইতোমধ্যে মারা গেছেন। তারাও মামলার নিষ্পত্তি করে যেতে পারেননি।

নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতের ঘুরপাকে ৫৬ বছর পার : নিবারণ প্রামাণিক। পেশায় কৃষক। ১৯৫০ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে চলে যান যশোরে। যাওয়ার সময় নিজের ভাগ্নে গৌর চন্দ্র মণ্ডলকে ১০ একরের বেশি সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে যান। দুই বছর পর ফিরে এসে সম্পত্তি আর ফেরত পাননি।

পরে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। ১৯৬৪ সালে নিম্ন আদালতে দায়ের করা হয় মোকদ্দমা। পাকিস্তান আমলে করা ওই মামলায় ১৯৮৩ সালে নিম্ন আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। যাতে মামলার বিবাদি (নিবারণের ভাগ্নে গৌর চন্দ্র মণ্ডল) জমি বিক্রি করতে না পারেন।

তবে ১৯৯১ সালে ভাগ্নে বিনিময় দলিলের মাধ্যমে ৯৮ শতাংশ জমি আবদুল জলিল নামের এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন। এর দুই বছর পর ১৯৯৩ সালে মারা যান নিবারণ। পরে মামলার শুনানি শেষে ১৯৯৯ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন সাব জজ আদালত নিবারণের পক্ষে রায় দেন।

কিন্তু নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে নিজের কেনা ৯৮ শতাংশ সম্পত্তি ফিরে পেতে জজ আদালতে আপিল করেন আব্দুল জলিল। আপিল আংশিক মঞ্জুর করে ২০০০ সালের ২৭ এপ্রিল রায় দেন আদালত।

রায়ে আদালত বলেন, ৪৯ শতাংশ সম্পত্তির স্বত্ব ভাগ্নে গৌর চন্দ্র মণ্ডলের। এই ৪৯ শতাংশ তিনি বিনিময় করতে পারেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে দুপক্ষই ২০০০ সালে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। ২০১৪ সালের ৩ জুন হাইকোর্ট রুল খারিজ করে রায় দেন। অর্থাৎ জজ আদালতের দেয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে আপিল বিভাগে আবেদন করেন লক্ষ্মণ প্রামাণিক ও তার ভাই পরেশ প্রামাণিক।

এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর আপিল বিভাগ মামলাটি হাইকোর্টে পুনঃশুনানির জন্য পাঠান। বর্তমানে মামলাটি বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে বিচারাধীন।

 গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলাটি রায়ের জন্য ৩৮ নম্বর ক্রমিকে ছিলো। কিন্তু এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ৯২ বছর বয়সি লক্ষ্মণ প্রামাণিক মারা গেছেন বলে স্বজনরা জানান। আদালত লক্ষ্মণ প্রামাণিকের ওয়ারিশগণকে পক্ষভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন :